Satkahon Interview | Pralay Sarkar – Lyricist | Fantastic Friday

Satkahon Interview | Pralay Sarkar – Lyricist

Satkahon Interview | Pralay Sarkar – Lyricist

প্রতিভা এমনই এক অদৃশ্য ক্ষমতা যা একজন সাধারণ মানুষকে সকলের থেকে আলাদা করে দৃশ্যমান করে তোলে।

ভেদাভেদ মানে না সে, মানে না সাদা কালো, ধনী-দরিদ্র, শহর-গ্রাম। তবে একবার তাকে খুঁজে পেলেই যে লক্ষ্যভেদ তা কিন্তু নয়। চাই চর্চা, চাই অনুশীলন।

সেই জন্যেই শিল্প সবার কিন্তু সবাই শিল্পী নন।

গীতিকার প্রলয় সরকারের জীবন গল্পও খানিক সেইরকম। পেশায় সরকারি চাকুরীজীবী হলেও অন্তরে জাগ্রত শিল্পসত্বা তাঁকে ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যেতে দেয়নি…

বরং একের পর এক শিল্প প্রদর্শনে তিনি হয়ে উঠেছেন সকলের থেকে আলাদা।

সাতকাহনের সাক্ষাৎকারে আজ গীতিকার প্রলয় সরকার…

ছোটবেলা থেকেই কি লেখালেখির প্রতি আগ্রহ?

কবিতা লেখা দিয়েই শুরু। তবে আমি সাংস্কৃতিক পরিবারে বড় হইনি, বেড়ে উঠেছি একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাই ছোট থেকেই চাকরি নয়ত ব্যবসা করতে হবে এই মানসিকতা নিয়েই পথ চলা।

আমার জন্ম চাকদায় যেটা শহর কলকাতা থেকে বেশ দূরে। এই মফস্বলের পরিবেশ কখনোই ভাবতে পারেনা যে এখানে কেউ শিল্পসত্তা নিয়ে বড় হবে বা এগিয়ে যাবে।

তবে ছোটবেলা থেকেই বন্ধুদের সাথে ছন্দ মিলিয়ে কথা বলা বা কবিতা করে মজার কথা বলা এইগুলো থেকেই ধীরে ধীরে কবিতার প্রতি আগ্রহ জন্মায়।

কিভাবে নিজের মধ্যে লেখক সত্ত্বা আবিস্কার করলেন?

বিদ্যালয় জীবনে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে লেখার একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করি।

বঙ্গীয় সাক্ষরতা প্রসার সমিতি বিদ্যাসাগর মেলা নামে। সেখানে একটি প্রবন্ধ লিখি। বিষয় ছিল “শিল্প না কৃষি?”

সেই প্রতিযোগিতায় আমি প্রথম স্থান পাই জেলার মধ্যে।

সেই প্রথম আমার লেখার প্রতি একটা ভালোবাসা জন্মায়।

কলেজ জীবনে লেখার প্রতি আরও আগ্রহ বাড়তে থাকে, আস্তে আস্তে চিত্রনাট্য, সংলাপ লিখতে শুরু করি।

গীতিকার হয়ে ওঠা কবে থেকে?

কলেজ জীবনে যশ গুপ্তা ও অমিত বোসের সাথে পরিচয় হয়, এবং আমার কবিতা গানের কথায় বদলে যায়।

তখন কবিতার থেকে গান লেখার প্রতি ভালোবাসা জন্মে ওঠে। ওনাদের সাথে দুই-তিন বছর কাজ করা।

এরপর পরিচয় হয় পরিচালক প্রদীপ সাহার সাথে।

মুক্তি পায় আমার প্রথম কাজ যশ গুপ্তার সুরে “Noutanki chal”।

গানটা গেয়েছিলেন মোনালি ঠাকুর। সিনেমার নাম ছিল সুইট হার্ট।

তখন আমার বয়স ১৮-১৯ হবে।

নানারকম কাজের মধ্যে আপনার প্রিয় কিছু কাজের কথা বলুন…

সুইটহার্ট, মাসুম, না জেনে মন, মহানায়ক উত্তম কুমার দা মেট্রো স্টেশন, দিলের বাজে বারোটা, মাসুম, না জেনে মন, করাপাক এই সব কটি সিনেমায় আমি গীতিকার হিসেবে কাজ করেছি।

এরপর সংগীত পরিচালক পল্লব চক্রবর্তী, সঞ্জীব সরকার, শুভদীপ সরকার, শান্তজিৎ অনেকের সাথেই বেশ কিছু কাজ করেছি।

সাথে কিছু মৌলিক গানও লিখেছি যেমন আজকাল, সজনা রে, অভিমানী, তোর চোখে, ব্রহ্মচারী।

মোনালী ঠাকুর, আকৃতি কক্কর, জাভেদ আলি, শান, রানা মজুমদার, ঋক বসু এবং আরও অনেকে আমার লেখায় গান গেয়েছেন।

নিজের প্রত্যেকটি সৃষ্টিই নিজের কাছে সুন্দর তাই প্রত্যেকটি কাজই আমার প্রিয়।

শুধু মাত্র শখে নয় পেশাগত ভাবেই তাহলে আপনি গান লেখেন?

সম্পূর্ণ পেশাগত ভাবে যে এই শিল্পকর্মে যুক্ত আমি তা ঠিক নয়, আমার মূল পেশা আমি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী। পাশাপাশি গান লিখি। আমি কখনো ভাবিনি আমি চাকরি করব না।

শিল্পের মুল্য পেটের দায় নষ্ট না হয়ে যায়, সেই ভেবেই আমি এই সিদ্ধান্তে আসি।

এখনও একজন গীতিকার বা সঙ্গীতশিল্পী আর্থিক ভাবে ততটা নিশ্চিত জীবন পান না বলেই আমার মনে হয়।

পেটের চিন্তা করতে হয় না বলেই হয়ত আমি মন দিয়ে একটা গান লিখতে পারি।

আগামী দিনে কি কি কাজ আসছে?

আগামী দিনে জাভেদ আলি ও শান এর কণ্ঠে নতুন গান আসছে। মৌলিক গানের মধ্যে আসছে হলুদ শাড়ী, তুমি আর আমি।

কলকাতা ছাড়াও বাংলাদেশের বেশ কিছু গুণী শিল্পী যেমন ইভান শেখ এর সাথে দুটি গানের কাজ শেষ করেছি আর একটি গানের কাজও চলছে আশা করি খুব শীঘ্রই শুনতে পারবেন।

সিনেমা এবং বাংলা মৌলিক দুই ক্ষেত্রেই আপনি কাজ করেছেন। কি মনে হয় কোন ক্ষেত্র আপনাকে বেশী পরিচয় দিয়েছে?

সত্যি বলতে সিনেমার থেকে মিউজিক ভিডিওতে পরিচিতি বেশি।কিন্তু এখনকার মত বিগত কিছু বছর আগে এই ইউটিউব প্লাটফর্মটার চল এতটা হয়নি, সেই সময় সিনেমাই একমাত্র উপায় ছিল নিজেদের মেলে ধরতে।

সিনেমায় গান লেখাটা খুবই সৌভাগ্যের কিন্তু সেখানে জনপ্রিয়তা পাওয়া কঠিন কারণ একটি বিশাল কাজের মধ্যে গীতিকার অনেক সময়ই হারিয়ে যান। একটি গান জনপ্রিয়তা পায় সঙ্গীতশিল্পীর নামেই।

কিন্তু মৌলিক গানে যেহেতু অল্প সংখ্যক মানুষ জড়িত সেহেতু সকলেই সমান মর্যাদা পান।

আপনার জীবন দর্শন থেকে একজন শিল্পী হিসেবে আপনি কি বার্তা দেবেন?

শিল্পী হতে গেলে এই জগতে শুধু শিল্পকর্মে পারদর্শী হলেই হবে না। মানসিকভাবে শক্তি রাখতে হবে। আজ হল না মানে কাল হবে না এমন নয়।

তাই লড়াই করতে হবে। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

যেটা আমাকেও করতে হয়েছে। কারণ আমি পড়াশোনা নিয়ে না ভেবে একমাত্র আমার শিল্পটাকেই নিয়ে ভেবেছি, নইলে আজ হয়তো আমি কোনো প্রফেসর বা শিক্ষক হতে পারতাম।

চার বছর লড়াই করার পর আমি প্রথম গান মুক্তি পায়। আমি অপেক্ষা করেছি। হেরে যায়নি।

আমি মনে করি প্রত্যেকবার ভেঙে গড়ে তোলার নামই শিল্প, আর ভেঙে গড়ে ওঠার মানুষই শিল্পী।

[Written by – Subarna D]

COPYRIGHT © 2020 SATKAHON

Leave a Comment

Your email address will not be published.